কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে আরেকটি বড় ঘোষণা এসেছে। ওপেনএআই নিয়ে এসেছে নতুন এআই এজেন্ট ‘ডটস’ (Dots)। সংস্থার দাবি, ব্যবহারকারীকে ধাপে ধাপে নির্দেশ দিতে হবে না। কাজের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেই এই এজেন্ট নিজে থেকে জটিল কাজগুলো সামলে নিতে পারবে।
সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত ওপেনএআইয়ের বার্ষিক ডেভেলপার ডে অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ডটসের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রযুক্তিটি সবার সামনে তুলে ধরেন সংস্থার সিইও স্যাম অল্টম্যান নিজে।
অল্টম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীকে শুধু কাজের দায়িত্বটুকু দিয়ে দিতে হবে। বাকি অংশ এজেন্ট নিজেই সামলাবে।
সাধারণ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাধারণত সহজ কাজেই সীমাবদ্ধ থাকে। ডটসকে তৈরি করা হয়েছে তুলনায় জটিল কাজের জন্য। বলা হচ্ছে, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বা চিফ অফ স্টাফের মতো দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই এজেন্ট।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডটস যেসব কাজ করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে:
এসব কাজের জন্য আলাদা করে নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেই দাবি করা হয়েছে।
বলা হচ্ছে, ডটস হিসাব কষে ব্যবহারকারীর ফাইল খুঁজে দেখতে পারে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত কাজ শেষ করে দিতে পারে। একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানোর সক্ষমতাও রয়েছে এর।
২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি আত্মপ্রকাশের পর থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঢুকে পড়তে শুরু করে। কয়েক বছর আগেও যা কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হতো, এখন তা বাস্তব। ডটসকে সেই ধারাবাহিকতারই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে এআই শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না, কাজও নিজে হাতে তুলে নেয়।
এআই যত বেশি স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নও তত বাড়ছে। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, গুগলের জেমিনি কারও নির্দেশ ছাড়াই নিজের সক্ষমতায় তিনটি সংস্থার ওয়েবসাইটে হ্যাক চালিয়েছে।
গুগলের সিকিওরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিথার অ্যাডকিন্স এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনার পর এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই ধারা চলতে থাকলে এআই ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে কি না।
ডটসের ক্ষমতা নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত ওপেনএআইয়ের দাবি। বাস্তব ব্যবহারে এজেন্টটি কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এর দাম কত হবে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা কবে থেকে এটি পাবেন, সে বিষয়েও এই প্রতিবেদনের সূত্রে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
ডটসের ঘোষণা দেখাচ্ছে, এআই এখন শুধু সহায়ক ভূমিকা থেকে সরে গিয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ সম্পন্ন করার দিকে এগোচ্ছে। এতে সময় বাঁচার সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্নও সামনে আসছে। ডটস বাস্তবে কেমন সাড়া দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.