বাংলাদেশের বাজারে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন এনেছে হেলিও মোবাইল। ফোনটির নাম হেলিও১১০। এতে আছে বাঁকানো অ্যামোলেড ডিসপ্লে, মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ চিপসেট, বড় ব্যাটারি এবং ফোনের পেছনে একটি ছোট ডিসপ্লে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী ফোনটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাজারে এসেছে।
এখন ফোন দিয়ে শুধু কথা বলা হয় না। কাজ, বিনোদন, ছবি তোলা বা কনটেন্ট বানানো, সবকিছুতেই ফোনের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই অনেকেই একটি ভালো ফ্ল্যাগশিপ ফোন চান।
কিন্তু স্টোরেজসহ ফোনের নানা যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফ্ল্যাগশিপ ফোন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই সময়েই হেলিও তাদের লাইনআপে নতুন এই মডেল যোগ করল।
ফোনটির দুই পাশ বাঁকানো, কাঠামো পাতলা, আর হাতে ধরলে আরাম পাওয়া যায়। পিইউ লেদার ও পলিকার্বোনেট দিয়ে তৈরি ফোনটি পাওয়া যাবে দুটি রঙে: ফ্লেম অরেঞ্জ ও নেভি ব্লু।
ফোনের পেছনে একটি ছোট ডিসপ্লে আছে। সেখানে দেখা যাবে:
ফোনে আছে ৬.৬৭ ইঞ্চির অ্যামোলেড এফএইচডি+ ডিসপ্লে। এর রেজোল্যুশন ১০৮০×২৪০০ পিক্সেল। রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ এবং কালার ডেপথ ১০ বিট। এতে ভিডিও ও গেমের ছবি মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাবে বলে জানানো হয়েছে। ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১০ হাজার নিটস, তাই রোদের মধ্যেও স্ক্রিন দেখতে সুবিধা হবে।
চোখের সুরক্ষার জন্যও কিছু ফিচার আছে। যেমন ফ্লিকার ফ্রি প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট ডিমিং এবং সারকাডিয়ান রিদম স্লিপ কেয়ার ও আই কেয়ার। এগুলোর উদ্দেশ্য হলো অনেকক্ষণ ফোন চালালেও চোখের কষ্ট কমানো।
ফোনটিতে আছে ৬ ন্যানোমিটারের অক্টা কোর মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ চিপসেট। সঙ্গে আছে ১১০০ মেগাহার্টজের জিপিইউ। প্রতিদিনের কাজ, একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো এবং গেম খেলার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এলপিডিডিআর৪এক্স র্যাম ও ফাস্টার ইউএমসিপি মেমোরির কারণে ডেটা দ্রুত লোড হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফোনে র্যাম ৮ জিবি, যা এক্সটেন্ডেড র্যাম সুবিধায় ১৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। ইন্টারনাল স্টোরেজ ১২৮ জিবি।
ফোনে ৬ হাজার এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি আছে। এর সঙ্গে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা মিলছে, আর ৪৫ ওয়াটের চার্জার ফোনের বক্সেই দেওয়া হবে। প্রস্তুতকারকের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ মিনিটে ফোনটি ৫০ শতাংশ চার্জ হয়।
পেছনে মূল ক্যামেরা ৬৪ মেগাপিক্সেলের আইএমএক্স সেন্সর। এতে ইআইএস সুবিধা থাকায় চলতে চলতে ছবি বা ভিডিও তুললেও কাঁপুনি কম হবে। কাছের জিনিসের ছবি তোলার জন্য আছে ২ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো ক্যামেরা।
ক্যামেরা অ্যাপে আরও যা পাওয়া যাবে:
ডুয়েল ভিউ ভিডিওতে একই সঙ্গে সামনের ও পেছনের দৃশ্য ধারণ করা যায়। ভ্রমণের ভিডিও বা রিঅ্যাকশন ভিডিও বানানোর সময় এটি কাজে লাগতে পারে। সেলফির জন্য সামনে আছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, সঙ্গে পোর্ট্রেট ও বিউটি ফিচার।
ফোনে এনএফসি, ইনফ্রারেড রিমোট, ইন্টেলিজেন্ট নয়েজ রিডাকশন এবং ওপরে ও নিচে দুটি স্পিকার আছে। কলের সময় আশপাশের শব্দ কমিয়ে কণ্ঠ পরিষ্কার করতে নয়েজ রিডাকশন কাজ করে।
ধুলাবালু ও পানির ছিটা থেকে সুরক্ষার জন্য ফোনে আইপি৬৪ রেটিং আছে। আয়রন গার্ড প্রটেকশনের কারণে ১ মিটার উচ্চতা থেকে পড়লেও স্ক্র্যাচ বা ভাঙার ঝুঁকি অনেকটা কমবে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফোন আনলক করার জন্য আছে ইন ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক। এ ছাড়া জাইরোস্কোপ ও কম্পাস সেন্সরও আছে।
ফ্ল্যাগশিপ ফোনের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার এই সময়ে হেলিও১১০ বড় ব্যাটারি, ১২০ হার্টজ অ্যামোলেড ডিসপ্লে, এনএফসি ও পেছনের ডিসপ্লের মতো ফিচার নিয়ে এসেছে। তবে ফোনটির কাজের গতি, ক্যামেরার মান আর ব্যাটারি কতক্ষণ চলে, তা বোঝা যাবে বাস্তব ব্যবহারে। এখানে দেওয়া স্পেসিফিকেশন ও দাবিগুলো প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.