নতুন স্মার্টফোন কিনে প্রথমবার চালু করার আগেই সেটিতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বসানো থাকতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটডিফেন্ডারের গবেষকেরা ১৫০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত হাজার হাজার কম দামি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এমন ম্যালওয়্যারের সন্ধান পেয়েছেন। ফোনের মূল সিস্টেম সফটওয়্যারের ভেতরেই এটি আগে থেকে ঢুকিয়ে রাখা ছিল।
গবেষকেরা এই ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটির নাম দিয়েছেন 'মিডনাইট মিমোসা'। গত দুই বছরে হাজার হাজার ফোনে এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। আক্রান্ত ফোনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মেক্সিকো, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে।
কিছু মিডিয়াটেক চিপসেটচালিত অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এটি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এমন ফোনও আছে, যেগুলোর নাম ও বিজ্ঞাপনে দামি ও আধুনিক স্মার্টফোনের মতো সুবিধার কথা বলা হয়েছে। অ্যাপল, স্যামসাং ও অনরের দামি মডেলের আদলে তৈরি কিছু ফোনেও ম্যালওয়্যারটি মিলেছে। আক্রান্ত কিছু মডেলের সঙ্গে চীনা ব্র্যান্ড ডুগি ও কিউবটের নামও জড়িয়ে আছে।
ব্যবহারকারী টের না পেলেও এই ম্যালওয়্যার ফোনে নতুন অ্যাপ বসাতে বা আগের অ্যাপ মুছে দিতে পারে। ভুয়া বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মতো কাজও এটি চালাতে পারে। ফোনের বিভিন্ন সুবিধা কাজে লাগিয়ে ক্ষতিকর কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতাও রয়েছে এর।
কিছু আক্রান্ত ফোন মালিকের অজান্তে অন্যদের ইন্টারনেট সংযোগের তথ্য আদান প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এতে ফোনটি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একদল ডিভাইসের অংশ হয়ে যায়। এ ধরনের নেটওয়ার্ককে বলা হয় বটনেট।
গবেষকেরা গুগল প্লেতে ছড়িয়ে পড়া ১৩টি ক্ষতিকর অ্যাপও শনাক্ত করেছেন। ফোনে আগে থেকে থাকা ম্যালওয়্যার সাময়িকভাবে গুগল প্লে স্টোর বন্ধ করে দিতে পারে। এরপর সে অন্য ক্ষতিকর অ্যাপ বসানোর চেষ্টা করে, যাতে গুগলের নিরাপত্তাব্যবস্থা সহজে সেগুলো ধরতে না পারে।
এই ম্যালওয়্যার অন্তত ৩২ ধরনের অ্যাপ গোপনে ইনস্টল করতে পারে, যেগুলো দেখতে সাধারণ অ্যাপের মতোই। এর মধ্যে আছে আবহাওয়ার তথ্য দেখার অ্যাপ, ফাইল গুছিয়ে রাখার অ্যাপ, আইকন বদলানোর টুল এবং অডিও সম্পাদনার অ্যাপ।
সাধারণ অ্যাপ সেটিংস থেকে সরিয়ে ফেলা যায়। কিন্তু এই ম্যালওয়্যার ফোনের মূল সিস্টেম সফটওয়্যারের অংশ হয়ে থাকায় সেভাবে মোছা যায় না। বিটডিফেন্ডারের গবেষকদের মতে, এটি সরাতে সিস্টেম সফটওয়্যারে বিশেষ পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এর জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা দরকার, যা সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে থাকে না।
কারা এই ম্যালওয়্যার ছড়িয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। ফোন তৈরির সময়ই এটি ঢুকেছে, নাকি বাজারে পৌঁছানোর পথে, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই।
কিছু আক্রান্ত সফটওয়্যারে চীনা প্রতিষ্ঠান শেনজেন জেডিয়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল সনদ পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, তা প্রমাণ করতে পারেননি গবেষকেরা।
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া ভালো:
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই ফোনে ম্যালওয়্যার আছে, এমন নিশ্চিত করে বলা যায় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী কয়েকটি পরামর্শ মেনে চলা যেতে পারে:
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করলেও এই ম্যালওয়্যার থেকে মুক্তি নাও মিলতে পারে।
অস্বাভাবিক কম দামের ফোন, অপরিচিত বিক্রেতা কিংবা প্রস্তুতকারকের পরিচয় অস্পষ্ট, এমন পণ্য কেনার আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নিন। পরিচিত ব্র্যান্ডের ফোন অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে ঝুঁকি কমতে পারে।
মিডনাইট মিমোসার ঘটনা দেখাচ্ছে, ফোনে ঝুঁকি শুধু অ্যাপ ডাউনলোডের মাধ্যমেই আসে না, কখনো কেনার আগেই তা ডিভাইসে বসে থাকতে পারে। উৎস ও আক্রমণকারী সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তাই বিশেষ করে কম দামের ও অপরিচিত ব্র্যান্ডের ফোন কেনার সময় যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সুরক্ষা।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.