মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বাজারে আসা মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট মিউজে একের পর এক নতুন সুবিধা যুক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি। ই মেইল দেখাশোনা, ক্যালেন্ডার সামলানো ও অনলাইনে কেনাকাটা থেকে শুরু করে কম্পিউটারের নানা কাজেও এখন ব্যবহারকারীরা এই এআই সহকারীর সাহায্য নিতে পারবেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেনলো পার্কে অনুষ্ঠিত মেটার বার্ষিক কানেক্ট সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ মিউজের এসব নতুন ফিচারের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী দিনে মিউজ আরও উন্নত হয়ে কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত এআই সহকারী হিসেবে কাজ করবে।
মেটার নিজস্ব প্রযুক্তি মিউজ স্পার্ক নামের একটি মাল্টিমোডাল এআই মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে মিউজ। এই এজেন্ট ব্যবহারকারীর বিভিন্ন ডিভাইস ও ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে।
এতদিন মিউজ ছিল মূলত একটি ভার্চুয়াল এআই সহকারী, যার সঙ্গে টেক্সট বা কণ্ঠে কথা বলা যেত। এবার তাকে দেওয়া হচ্ছে একটি দৃশ্যমান রূপ, অর্থাৎ চেহারা, শরীর ও কণ্ঠ।
নতুন এই সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের মিউজের জন্য আলাদা একটি ডিজিটাল অ্যাভাটার তৈরি করতে পারবেন। সেই অ্যাভাটারের নাম রাখা হয়েছে জলি। এই অ্যাভাটারের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কলে কথা বলা যাবে, প্রশ্ন করা যাবে এবং বিভিন্ন কাজের নির্দেশও দেওয়া যাবে।
মেটার স্মার্ট চশমার সঙ্গেও এবার সংযুক্ত হবে মিউজ। মেটার তথ্য অনুযায়ী, চশমায় নির্দিষ্ট একটি ওয়েক ওয়ার্ড উচ্চারণ করলেই মিউজ সক্রিয় হয়ে উঠবে।
সক্রিয় হওয়ার পর এই এআই এজেন্ট ব্যায়ামের নির্দেশনা দিতে, খাবারের হিসাব রাখতে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে এবং সামনে দেখা কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও সহায়তা করতে পারবে। কোনো কাজের নির্দেশ পাওয়ার পর মিউজ নেপথ্যে সেই কাজ চালিয়ে যাবে এবং শেষ হলে ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেবে। তবে এই সুবিধা কবে থেকে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি মেটা।
মেটা এবার মিউজকে ম্যাক কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজ করার সুযোগও দিচ্ছে। কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়ার পর ব্যবহারকারী কম্পিউটার থেকে দূরে সরে গেলেও মিউজ সেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
মেটার প্রধান এআই কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ওয়াং বলেন, ছোট ব্যবসা পরিচালনা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের নানা কাজে মিউজকে ব্যবহার করা যাবে। ডেস্কটপে থাকা বিভিন্ন অ্যাপও এই এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলে জানান তিনি।
যেহেতু মিউজ ব্যবহারকারীর পক্ষ থেকে নেপথ্যে বিভিন্ন কাজ করবে, তাই তাকে একটি নিজস্ব ই মেইল ঠিকানা দেওয়ারও পরিকল্পনা করছে মেটা।
এই সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় ই মেইল সরাসরি মিউজের কাছে ফরোয়ার্ড করতে পারবেন। এমনকি কোনো ই মেইল থ্রেডেও মিউজকে যুক্ত করা যাবে, যাতে সে ব্যবহারকারীর হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফেলতে পারে। তবে এই সুবিধারও সুনির্দিষ্ট মুক্তির সময় জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে মিউজকে আরও সক্রিয় করে তুলতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শপিফাইয়ের বিশাল পণ্যভান্ডারে পণ্য খোঁজার পাশাপাশি কেনার প্রক্রিয়াতেও সহায়তা করতে পারবে মিউজ।
পেমেন্টের ক্ষেত্রে পেপালের জন্যও বাড়তি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করবে বলে জানিয়েছে মেটা।
মেটা সম্প্রতি ডেভেলপারদের জন্য মিউজের প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত করেছে। এর ফলে অন্য প্রতিষ্ঠান ও ডেভেলপাররাও নিজেদের তৈরি কানেক্টর মিউজের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন।
আলেকজান্ডার ওয়াং জানান, এই সুবিধা চালুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মেটার কাছে দেড় হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এতে বোঝা যায়, নতুন এই এআই প্ল্যাটফর্মের প্রতি ডেভেলপারদের আগ্রহ কতটা বেশি।
মেটার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মিউজ কেবল প্রশ্নোত্তরের একটি এআই টুল হয়ে থাকবে না, বরং ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল কাজও নিজে থেকে সম্পন্ন করতে পারবে। অ্যাভাটার, স্মার্ট চশমা সংযোগ, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ও নিজস্ব ই মেইল ঠিকানার মতো সুবিধাগুলো এখনো পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে, তাই এগুলোর পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা বোঝা যাবে ব্যাপকভাবে চালু হওয়ার পর। তবে এসব উদ্যোগ স্পষ্ট করে দেয় যে, ব্যক্তিগত এআই সহকারীর প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে মেটা।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.