০৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঘুমানোর আগে রিলস দেখার অভ্যাস কতটা ক্ষতিকর

calendar_month ২৪ মার্চ ২০২৫ ১৯:২৪:৪৭ person অনলাইন ডেস্ক
ঘুমানোর আগে রিলস দেখার অভ্যাস কতটা ক্ষতিকর

ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্মার্টফোনে রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখার অভ্যাস দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই অভ্যাস মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি ডেকে আনতে পারে।

চীনের একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় রিলস দেখার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি রয়েছে। গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন বয়সের ৪,৩১৮ জন। তাঁদের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানান, যারা নিয়মিত ঘুমের আগে রিলস দেখেন, তাঁদের মধ্যে হাইপারটেনশনসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

শুধু শারীরিক নয়, ঘুমানোর আগে রিলস দেখার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে দেখা দিচ্ছে মনোযোগের অভাব, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ। গবেষকরা বলছেন, করোনার সময় থেকেই রিলসের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং তার পর থেকেই মানসিক চাপে ভোগার হারও বেড়েছে।

বিশেষ করে জেনারেশন জি এবং জেন আলফা—এই দুই প্রজন্মের মধ্যে মনোসংযোগ ধরে রাখতে না পারার প্রবণতা বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ হিসেবে রিলস ও শর্ট ভিডিও কনটেন্টকে দায়ী করা হচ্ছে।

শারীরিক স্থবিরতা ও স্নায়ুতন্ত্রে চাপ

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ঘুমানোর সময় বিছানায় শুয়ে একটানা রিলস দেখার সময় শরীরের চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে। এর ফলে শরীরের রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার প্রভাবে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে এবং ঘুমে বিঘ্ন ঘটে।

পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট আগে স্মার্টফোনসহ সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময়ের পরে ফোনটি আলাদা জায়গায় রেখে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

সচেতন না হলে দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস শারীরিক ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন