কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও আসল, নাকি AI দিয়ে বানানো, এখন তা নিজেই যাচাই করে দেখার সুযোগ দিচ্ছে Google। প্রতিষ্ঠানটি তাদের SynthID Detector টুল বিশ্বজুড়ে সবার ব্যবহারের জন্য খুলে দিয়েছে। Google DeepMind এর ঘোষণা অনুযায়ী, এর আগে টুলটির একটি প্রাথমিক সংস্করণ শুধু মিডিয়া পেশাজীবীদের জন্য সীমিত ছিল।
অনলাইনে AI দিয়ে তৈরি কনটেন্ট দ্রুত বাড়ছে। তাই কোনটি বিশ্বাসযোগ্য, তা বোঝা সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে টুলটি সবার হাতের নাগালে আনা গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
SynthID Detector পাওয়া যাবে synthid.com ঠিকানায়, বর্তমানে শুধু ইংরেজি ভাষায়। ব্যবহারকারী সেখানে একটি মিডিয়া ফাইল আপলোড করলে টুলটি ফাইলের ভেতরে SynthID ওয়াটারমার্ক আছে কি না খুঁজে দেখে।
এই যাচাই শুধু Google এর নিজস্ব ওয়াটারমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। Google এর অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর বসানো ওয়াটারমার্কও শনাক্ত করা যায়। অংশীদারদের মধ্যে আছে OpenAI, Nvidia ও Kakao। Apple শিগগিরই এই তালিকায় যুক্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।
SynthID এর কৌশলটি হলো কনটেন্ট তৈরির মুহূর্তেই তাতে এমন ওয়াটারমার্ক বসিয়ে দেওয়া, যা চোখে বা কানে ধরা পড়ে না। ফলে ছবি, ভিডিও বা অডিওর মান কিংবা চেহারা বদলায় না, অথচ পরে ফাইলটির উৎস খুঁজে বের করা যায়।
টুলটি বিভিন্ন ধরনের ফরম্যাট গ্রহণ করে।
ছবি: JPG, JPEG, PNG, BMP, WEBP, AVIF, HEIC, HEIF, TIFF, TIF ও GIF।
ভিডিও: MP4, MOV ও WEBM।
অডিও: WAV, MP3, OGG, FLAC, AAC ও M4A।
Google DeepMind এর বিজ্ঞান ও কৌশলগত উদ্যোগ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পুশমিত কোহলি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে SynthID চালুর পর থেকে ১৮০ বিলিয়নের বেশি ছবি ও ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক বসানো হয়েছে। অডিওর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার বছরের কনটেন্টের সমান।
কোহলির ভাষ্য অনুযায়ী, টুলটির লক্ষ্য হলো মানুষ অনলাইনে যা দেখছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া, যাতে কোন কনটেন্টে ভরসা করা যায় তা নিয়ে তারা ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
নতুন এই পোর্টাল Google এর বিদ্যমান যাচাই সুবিধাগুলোর সঙ্গে যুক্ত হলো। Google Search, Gemini অ্যাপ ও Chrome এ আগে থেকেই এ ধরনের যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব সুবিধায় প্রতিদিন দশ লাখের বেশি অনুরোধ প্রক্রিয়া করা হয়।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.