৩০ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোবাইল ফোনে সরাসরি স্যাটেলাইট সেবা চালু করল বাংলালিংক

calendar_month ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৬:১৭ person অনলাইন ডেস্ক
মোবাইল ফোনে সরাসরি স্যাটেলাইট সেবা চালু করল বাংলালিংক

দেশের মোবাইল যোগাযোগে নতুন একটি স্তর যুক্ত হলো। বাংলালিংক ও স্টারলিংক একসঙ্গে চালু করেছে স্যাটেলাইট টু মোবাইল সেবা, অর্থাৎ আকাশের স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি ফোনের যোগাযোগ। এতে মোবাইল টাওয়ারের নাগালের বাইরে থাকা এলাকাতেও সীমিত পরিসরে যোগাযোগ চালু রাখা যাবে।

এই সেবা নিতে আলাদা স্টারলিংক ডিশ, স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ হ্যান্ডসেট কিনতে হবে না। বাংলালিংক জানিয়েছে, ৪জি সাপোর্ট করে এমন যেকোনো ফোন এবং বাংলালিংক সিম হলেই চলবে।

তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার থাকা দরকার। এটি ফোনে পূর্ণাঙ্গ স্টারলিংক ইন্টারনেট নয়। বরং প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি একটি বাড়তি যোগাযোগ স্তর তৈরির উদ্যোগ।

এক নজরে সেবাটি

  1. বাংলালিংক স্টারলিংকের প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্যাটেলাইট টু মোবাইল সেবা চালু করেছে।
  2. ৪জি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই সেবা পাওয়া যাবে।
  3. ডিশ বা স্যাটেলাইট ফোনের দরকার নেই।
  4. সমুদ্র, উপকূল ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
  5. প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র প্যাকেজের সঙ্গে সংযোগ বিনামূল্যে।
  6. প্রতি মাসে পাঁচটি বিনামূল্যের SMS মিলবে।

প্রযুক্তিটি কীভাবে আলাদা

সাধারণ ব্যবস্থায় ফোন আগে কাছের টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়। সেই টাওয়ার ফাইবার বা মাইক্রোওয়েভ লাইনের মাধ্যমে অপারেটরের মূল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকে। টাওয়ার না থাকলে, কিংবা টাওয়ারের সংযোগ লাইন নষ্ট হলে, সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

নতুন ব্যবস্থায় কক্ষপথে থাকা স্টারলিংক স্যাটেলাইট মোবাইল নেটওয়ার্কের একটি বাড়তি সংযোগ বিন্দুর মতো কাজ করে। উপযুক্ত ৪জি ফোন তখন টাওয়ারের বদলে সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। সেখান থেকে সংকেত যায় স্টারলিংক ও বাংলালিংকের নেটওয়ার্কে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

ঘনবসতির দেশ হলেও বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। এখানে আছে বিস্তীর্ণ উপকূল, সমুদ্র, চর, নদীবেষ্টিত জনপদ, দুর্গম দ্বীপ, পাহাড় এবং প্রত্যন্ত গ্রাম। সব জায়গায় টাওয়ার বসানো সহজ নয়, আর ব্যবসার হিসাবেও সবসময় পোষায় না।

একটি টাওয়ার চালু রাখতে বিদ্যুৎ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ফাইবার বা মাইক্রোওয়েভ সংযোগ এবং কারিগরি সহায়তা লাগে। স্যাটেলাইট যোগাযোগে এসব স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমে যায়।

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন