এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেওয়া সংশোধিত আইপিও নথিতে এমন একটি ইঙ্গিত দিয়েছে, যা এখন প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। নথির সূক্ষ্ম অক্ষরে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এমন এক মোড়ের কাছাকাছি, যেখানে এআই নিজেই নিজের উন্নতি ঘটাতে শুরু করতে পারে।
আরএসআই-এর পুরো রূপ রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট, বাংলায় বলা যায় 'আত্ম-উন্নয়নের চক্রাকার প্রক্রিয়া'। ধারণাটি সহজ। কোনো এআই যদি নিজেকে প্রশিক্ষণ দিতে ও উন্নত করতে এতটাই দক্ষ হয়ে ওঠে, তাহলে প্রতিটি নতুন সংস্করণ পরেরটিকে আরও দ্রুত ও আরও ভালোভাবে তৈরি করবে। এতে সক্ষমতা বাড়তে পারে অভাবনীয় গতিতে।
এ নিয়ে দুই ধরনের মত রয়েছে:
অ্যানথ্রপিকের অবস্থান এ দুইয়ের মাঝামাঝি। প্রতিষ্ঠানটি একে একই সঙ্গে সম্ভাবনা ও বিপদ হিসেবে দেখছে।
অ্যানথ্রপিক স্বীকার করেছে, তারা গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে নিজেরাই এআই ব্যবহার করে। তবে নথিতে হুঁশিয়ারি রয়েছে যে, আরও সক্ষম এআই তৈরিতে এআইয়ের সাহায্য নিলে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে অগ্রগতির গতি যদি অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এ ধরনের ঝুঁকি নজরে রাখা ও কমানোর পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের 'রেসপনসিবল স্কেলিং পলিসি'র অন্তর্ভুক্ত।
এবার ঝুঁকির অংশে দুটি নতুন বিষয় যোগ হয়েছে:
১. অগ্রগতি টের না পাওয়ার অভিজ্ঞতা। এআই দিয়ে নতুন মডেল তৈরি করতে গিয়ে অতীতে সক্ষমতার বড় উল্লম্ফন ঘটলেও অ্যানথ্রপিক তখন তা শনাক্ত করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, ভবিষ্যতেও এমন হতে পারে। অর্থাৎ ত্বরণ ঘটে যাওয়ার পরে তারা বুঝতে পারে। নিরাপত্তা, অ্যালাইনমেন্ট ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার গতি মডেলের উন্নতির গতির চেয়ে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
২. নিজস্ব সংজ্ঞার সীমানায়। অভ্যন্তরীণ হিসাব এবং ভবিষ্যৎ মডেল নিয়ে প্রত্যাশা বলছে, প্রতিষ্ঠানটি খুব শিগগিরই রেসপনসিবল স্কেলিং পলিসিতে বর্ণিত 'এআইয়ের কারণে নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত অগ্রগতি'র সংজ্ঞায় পড়ে যেতে পারে।
অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট করেছে, বর্তমান কোনো মডেলকেই তারা এই সীমা অতিক্রম করেছে বলে চিহ্নিত করেনি। সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ চলছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় মানুষের ভূমিকা রাখা হবে। মানুষের কার্যকর তদারকি ও বোঝাপড়া ছাড়া ক্লোডকে দিয়ে একের পর এক অত্যাধুনিক মডেল পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করানো নিরাপদ হবে বলে তারা মনে করে না, প্রযুক্তিগতভাবে তা সম্ভব হলেও। তাই অগ্রসর মডেলের উন্নয়ন মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেসপনসিবল স্কেলিং পলিসি হালনাগাদের কথা ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি।
সবাই এই বক্তব্যকে সরল চোখে দেখছেন না। সমালোচকদের যুক্তি, এস-১ নথি একই সঙ্গে তথ্য প্রকাশের দলিল এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজেদের তুলে ধরার মাধ্যম। এমন ক্ষমতাধর মডেলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার দাবি তাই প্রচারেরই অংশ হতে পারে।
তবে চলতি বছরে ক্লোড এর কোডিং, গণিত ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রযুক্তিটির নির্মাতারাই যখন বলছেন যে এআইয়ের আত্ম-উন্নয়নের সম্ভাবনা কাছে এসে পড়েছে, তখন বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া কঠিন। সম্ভবত এখনই সময় একে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা এবং সেই অনুযায়ী নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে ভাবার।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.