অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন iPhone Duo বাজারে আসতে না আসতেই বিতর্কে জড়িয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাঁদের ফোনের ভেতরের স্ক্রিনে ফাটল ধরেছে। অ্যাপল স্বীকার করেছে, "অল্প কিছু" ডিভাইসে ইনার ডিসপ্লের সমস্যা দেখা গেছে। তবে সমস্যাটি কতটা ব্যাপক, তা বলার সময় এখনো হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফোনটির বিশ্বব্যাপী বিক্রি শুরুর পর থেকে রেডিটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রিন ফাটার পোস্ট আসছে। দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, Apple iPhone Duo-র দাম শুরু হয়েছে ১,৯৯৯ ডলার থেকে (যুক্তরাজ্যে ১,৪৯৯ পাউন্ড)।
অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যবহারকারীর দাবি, কেনার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ফোনের স্ক্রিন ফেটে গেছে। বন্ধুকে দেখানোর সময় ফোন খুলতে গিয়ে হিঞ্জের নিচে অস্বাভাবিক কিছু টের পান তিনি। আরেকটু খুলতেই ফাটার শব্দ হয় এবং হিঞ্জ বরাবর স্ক্রিন ভেঙে যায়। তাঁর শেয়ার করা ছবিতে স্ক্রিনের একপাশে সাদা আলোর রেখা দেখা গেছে। তিনি জানান, স্থানীয় অ্যাপল স্টোর সঙ্গে সঙ্গে ফোনটি বদলে দিয়েছে। তবে গার্ডিয়ান দাবিটি যাচাই করতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার আরেক ব্যবহারকারীও ফাটার মতো শব্দ শোনার পর একই ধরনের ত্রুটির কথা জানিয়েছেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যবহারকারীদের মধ্যেও অনুরূপ সমস্যার উল্লেখ আছে।
অ্যাপল জানিয়েছে, অল্পসংখ্যক iPhone Duo-র ইনার ডিসপ্লেতে সমস্যার কথা তারা জানে। কারও ফোনে এমন হলে AppleCare-এর মাধ্যমে ডিভাইস বদলে নিতে বলেছে কোম্পানি। অ্যাপলের ধারণা, আক্রান্ত ইউনিটগুলোতে ব্যবহারের শুরুর দিকেই ত্রুটি ধরা পড়ছে। একই সঙ্গে কোম্পানির দাবি, প্রথম দিকের ব্যবহারকারীদের সাড়া "অত্যন্ত ইতিবাচক" এবং ফোনটির চাহিদা "অসাধারণ"।
iPhone Duo নতুন সিইও জন টারনাসের সময়ের সবচেয়ে আলোচিত লঞ্চ। সেপ্টেম্বরে তিনি টিম কুকের কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাইওয়ানের প্রকাশনা ইকোনমিক ডেইলির বরাতে জানা গেছে, ফোনটি বিক্রি হয়ে গেছে এবং পরবর্তী চালান জানুয়ারির আগে আসার সম্ভাবনা কম।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান IDC-র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেছেন, সমস্যাটি গুরুতর কি না, তা এখনই বলা কঠিন। নতুন পণ্য বাজারে এলে এমন ঘটনা তাঁর মতে বেশ সাধারণ। তিনি ২০১৯ সালের প্রথম স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ডের উদাহরণ দেন। সে সময় স্যামসাং দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পদক্ষেপ নিয়ে ফোল্ডেবল ক্যাটাগরির ক্ষতি সীমিত রাখতে পেরেছিল। তাঁর মতে, এখন আসল বিষয় কোম্পানির সাড়া, আর প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব "সঠিক প্রথম পদক্ষেপ"।
গবেষণা সংস্থা CCS-এর প্রধান বিশ্লেষক বেন উডও সতর্ক অবস্থানে আছেন। তাঁর মতে, ব্যাপক কোনো সমস্যার প্রমাণ এখনো মেলেনি।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.