সময় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ, কিন্তু এর গঠন কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা অনেকেরই অজানা। ১ ঘণ্টা কেন ৬০ মিনিটে ভাগ করা হয়—এর উত্তর লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাসে। ১৭৯৩ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় সময় ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পরিবর্তন করার একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রস্তাব করা হয়, ১ দিন হবে ১০ ঘণ্টা, প্রতিটি ঘণ্টা ১০০ মিনিট এবং প্রতিটি মিনিট ১০০ সেকেন্ডে বিভক্ত হবে। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। পুরোনো ঘড়ি বদলানোর অসুবিধা এবং ১০ দিনে একদিন ছুটির নিয়ম মানুষের পছন্দ হয়নি। ফলে এক বছরের মধ্যেই এই ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।
বর্তমান সময়ের ৬০ ভিত্তিক ধারণার উৎপত্তি প্রায় ৫,০০০ বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায়। সুমেরীয়রা ৬০-ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করত, যা গণনার জন্য অত্যন্ত কার্যকর ছিল। তারা আঙুলের গাঁট গুনে ১২ পর্যন্ত গণনা করত এবং অন্য হাত দিয়ে সেটিকে পাঁচবার গুণে ৬০ পর্যন্ত পৌঁছাত। এই পদ্ধতি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ ৬০ সংখ্যাটি সহজেই ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১০, ১২, ১৫, ২০ ও ৩০ দিয়ে ভাগ করা যায়, যা হিসাব-নিকাশকে সহজ করে।
পরবর্তীতে প্রাচীন মিশরীয়রা দিনকে ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাতে ভাগ করে মোট ২৪ ঘণ্টার ধারণা চালু করে। তারা সূর্যঘড়ি ও নক্ষত্রের সাহায্যে সময় নির্ধারণ করত। এরপর ব্যাবিলনীয়রা ৬০-ভিত্তিক পদ্ধতিকে আরও উন্নত করে সময়কে ছোট এককে ভাগ করে, যার ফলস্বরূপ ১ ঘণ্টা = ৬০ মিনিট এবং ১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ডের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটলেও সময়ের এই কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। স্মার্টফোন, GPS বা পারমাণবিক ঘড়ি—সবই এই প্রাচীন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর কারণ হলো এই পদ্ধতির কার্যকারিতা, দীর্ঘদিনের অভ্যাস এবং বিশ্বব্যাপী এর গ্রহণযোগ্যতা। তাই বলা যায়, ১ ঘণ্টা ৬০ মিনিটে বিভক্ত হওয়া কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি হাজার বছরের ইতিহাস, বিজ্ঞান ও মানব সভ্যতার সম্মিলিত অবদান।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.