বর্তমান সময়ে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর, শপিং মলসহ বিভিন্ন স্থানে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা খুবই সাধারণ বিষয়। তবে বিনামূল্যের এই ইন্টারনেট সুবিধার সঙ্গে রয়েছে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি। অসতর্কভাবে পাবলিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড ও আর্থিক তথ্য চুরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন।
১. নেটওয়ার্কের সঠিক নাম নিশ্চিত করুন
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে সাইবার অপরাধীরা প্রায়ই ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ ধরনের হামলা চালায়। অনেক সময় আসল নেটওয়ার্কের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তাই কোনো ক্যাফে, রেস্তোরাঁ বা প্রতিষ্ঠানের ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সঠিক নেটওয়ার্কের নাম জেনে সংযুক্ত হওয়া উচিত।
২. ফাইল শেয়ারিং সুবিধা বন্ধ রাখুন
বাড়ি বা অফিসের বিশ্বস্ত নেটওয়ার্কে ফাইল শেয়ারিং সুবিধা কার্যকর হলেও পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অপরিচিত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার আগে এয়ারড্রপ, নেটওয়ার্ক ডিসকভারি ও অন্যান্য ফাইল শেয়ারিং অপশন বন্ধ রাখা নিরাপদ।
৩. ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাই করুন
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় কোনো ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক কার্ডের তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সেটি নিরাপদ কি না যাচাই করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানার শুরুতে HTTPS লেখা আছে কি না এবং ব্রাউজারে প্যাডলক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
৪. অ্যান্টিভাইরাস চালু ও আপডেট রাখুন
ডিভাইসের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অনেকেই অ্যান্টিভাইরাস বন্ধ রাখেন। তবে অপরিচিত নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় এটি নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিভাইসে অ্যান্টিভাইরাস সক্রিয় ও হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।
৫. আর্থিক লেনদেন এড়িয়ে চলুন
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগইন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পাবলিক নেটওয়ার্কে ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। জরুরি আর্থিক কাজের জন্য ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করাই নিরাপদ।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.