বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনে ছবি তোলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোবাইল ফটো এডিটিং অ্যাপের চাহিদাও বেড়েছে বহুগুণ। এখন আর ছবি সম্পাদনার জন্য আলাদা কম্পিউটার বা দামি সফটওয়্যারের প্রয়োজন পড়ে না। মোবাইলেই মিলছে পেশাদার মানের সম্পাদনার সুবিধা, তাও একেবারে বিনা খরচে। এই লেখায় আমরা জানব মোবাইলে ছবি সম্পাদনার জন্য জনপ্রিয় পাঁচটি অ্যাপ সম্পর্কে।
গুগলের তৈরি এই অ্যাপটি পেশাদার ও নবীন—সব ধরনের ব্যবহারকারীর জন্যই উপযোগী। এতে রয়েছে ২৯টি শক্তিশালী টুল ও ফিল্টার, যার মধ্যে রয়েছে হিলিং টুল, ব্রাশ টুল, স্ট্রাকচার, কার্ভস, পারসপেক্টিভ ও এক্সপ্যান্ড টুল। ছবির নির্দিষ্ট অংশে সূক্ষ্ম সম্পাদনা করা যায় এবং ছবির মান অক্ষুণ্ণ থাকে।
অ্যাডোবির পেশাদার সফটওয়্যার লাইটরুমের মোবাইল সংস্করণটি ফটোগ্রাফারদের জন্য আদর্শ। এতে আলো, ছায়া, কনট্রাস্ট, হোয়াইট ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণের সুবিধা রয়েছে। কালার গ্রেডিং, ক্রপ, রোটেশন ও স্পট রিমুভাল টুলসহ অসংখ্য প্রিসেট ব্যবহার করে সহজেই ছবির রূপান্তর সম্ভব।
ছবি সম্পাদনা, কোলাজ তৈরি ও আঁকার সুবিধা একত্রে নিয়ে এসেছে পিকসআর্ট। এতে রয়েছে এআইনির্ভর ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভাল, আর্টিস্টিক ফিল্টার, স্টিকার ও কাস্টমাইজড টেক্সট যুক্ত করার সুবিধা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী কনটেন্ট তৈরিতে এটি জনপ্রিয়।
পিক্সলার মোবাইল ও ওয়েব—দুই মাধ্যমেই ব্যবহারযোগ্য। পিক্সলার এক্স মোডে দ্রুত সম্পাদনা এবং ই মোডে ফটোশপের মতো ডিটেইল কাজ করা যায়। এতে লেয়ারভিত্তিক ডিজাইন, ডিসপারশন, বোকেহ ও গ্লিচ ইফেক্টসহ এআই ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভাল টুল রয়েছে।
ফটোশপের মোবাইলবান্ধব সংস্করণ এটি। এতে এক ক্লিকে দাগ বা অবাঞ্ছিত অংশ মুছে ফেলা, ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন, ছবি সোজা করা ও আলোর ভারসাম্য ঠিক করার সুবিধা রয়েছে। ‘লুকস’ নামের ফিল্টার ও কোলাজ মেকার ফিচার ছবির মুড ও বিন্যাস বদলে দিতে পারে।
এই পাঁচটি অ্যাপের প্রতিটিই মোবাইল ফোনে পেশাদার মানের ছবি সম্পাদনার সুযোগ এনে দিয়েছে। আপনি যদি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হন বা শুধু নিজের ছবিগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চান, তাহলে এই অ্যাপগুলো আপনার মোবাইলে থাকা চাই-ই চাই। ছবি সম্পাদনা এখন আর শুধু পেশাদারদের কাজ নয়—সবার হাতের মুঠোয়!
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.