সময় গড়ালে ল্যাপটপের পর্দায় ধুলা, আঙুলের ছাপ ও দাগ জমে যায়। এতে পর্দার স্বচ্ছতা নষ্ট হয় এবং দীর্ঘ সময় কাজ করলে চোখে ক্লান্তি বাড়ে। অনেকেই ভুল উপকরণ ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে গিয়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ান।
ল্যাপটপের পর্দা সাধারণ কাচের মতো নয়। এটি সংবেদনশীল উপাদানে তৈরি এবং সুরক্ষার জন্য বিশেষ আবরণ থাকে। ভুল উপকরণ বা অতিরিক্ত তরল ব্যবহার করলে সেই আবরণ উঠে যেতে পারে, স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
ল্যাপটপ অবশ্যই বন্ধ করে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। যন্ত্র গরম থাকলে ঠান্ডা হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। এরপর মাইক্রোফাইবার কাপড় ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত রাখতে হবে। যথেষ্ট আলো থাকলে পর্দার প্রতিটি অংশ স্পষ্ট দেখা যায় এবং পরিষ্কার করতে সুবিধা হয়।
সবচেয়ে নিরাপদ উপকরণ হলো মাইক্রোফাইবার কাপড়। হালকা দাগ তুলতে কাপড় সামান্য ডিস্টিলড পানিতে ভিজিয়ে ব্যবহার করা যায়। তেলতেলে দাগ তুলতে ডিস্টিলড পানি ও সাদা ভিনেগারের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। বাজারে স্ক্রিন নিরাপদ ওয়াইপসও পাওয়া যায়। ফাঁকা জায়গার ধুলা পরিষ্কার করতে কমপ্রেসড বাতাস ব্যবহার করা যেতে পারে।
টিস্যু, পুরোনো কাপড় বা পেপার টাওয়েল ব্যবহার করা ঠিক নয়, এগুলো আঁচড় ফেলতে পারে। অ্যালকোহল বা অ্যামোনিয়াযুক্ত ক্লিনার বিপজ্জনক। জানালা পরিষ্কারক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশক ওয়াইপসও ক্ষতি করে। অতিরিক্ত তরল বা সরাসরি স্প্রে ব্যবহার করা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
ধীরে বৃত্তাকারে মুছতে হবে এবং বাড়তি চাপ দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ভিনেগার পানির মিশ্রণ ব্যবহার করা যায়। পরিষ্কার করার পর পর্দা সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে তবেই ল্যাপটপ চালু করা উচিত।
ম্যাট পর্দা শুকনা মাইক্রোফাইবার কাপড়ে পরিষ্কার করতে হবে। গ্লসি পর্দায় হালকা ভেজা কাপড় ব্যবহার করা যায়। টাচস্ক্রিন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। OLED বা LED ডিসপ্লের ক্ষেত্রে শুধু স্ক্রিন নিরাপদ ওয়াইপস ব্যবহার করা উচিত এবং অ্যালকোহলযুক্ত দ্রবণ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.