১৮ জুলাই ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপদে থাকতে ব্রাউজারে ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করুন

calendar_month ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৪৮:২৪ person অনলাইন ডেস্ক
নিরাপদে থাকতে ব্রাউজারে ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করুন

অনেক সময় আমরা অন্যের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করি। তখন প্রয়োজনে ব্রাউজার ব্যবহার করতে হয়। এতে অন্যের কম্পিউটারে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ব্রাউজারে প্রাইভেট বা ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করা যায়। অনলাইন গোপনীয়তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনকগনিটো মোডের ব্যবহারও দ্রুত বেড়েছে।

ইনকগনিটো মোড কী করে

ইনকগনিটো মোড চালু করলে ব্রাউজার স্থানীয়ভাবে তথ্য ব্যবস্থাপনার ধরনে পরিবর্তন আনে। ব্যবহারকারী কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন, তা ব্রাউজারের ইতিহাসে সংরক্ষিত থাকে না। সেশনের সময় তৈরি হওয়া কুকি ও সাইট–সংক্রান্ত ডেটা প্রাইভেট উইন্ডো বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুছে যায়। ফরম পূরণ, অটো ফিল বা সংরক্ষিত লগইন তথ্যও সেশনে ব্যবহার করা হয় না। তবে সেশনের সময় যেসব ফাইল ডাউনলোড করা হয় বা বুকমার্ক তৈরি করা হয়, সেগুলো যন্ত্রে থেকেই যায়। তাই বহুজনে ব্যবহৃত কম্পিউটার বা ল্যাপটপে নিজের ব্রাউজিং তথ্য মুছে ফেলতে ইনকগনিটো মোড কার্যকর হতে পারে।

ইনকগনিটো মোডের সীমাবদ্ধতা

নামে প্রাইভেট হলেও ইনকগনিটো মোড অনলাইন পরিচয় বা কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে গোপন করে না। ব্যবহারকারীর ওয়েব ট্রাফিক যেহেতু সেবা প্রদানকারীর নেটওয়ার্ক দিয়েই যায়, তাই আইএসপি বা কর্মস্থলের নেটওয়ার্ক প্রশাসক দেখতে পারেন আপনি কোন সাইটে প্রবেশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটও ট্র্যাকিং প্রযুক্তি, ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বা লগইন করা অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পারে। এই মোডে আইপি ঠিকানাও দৃশ্যমান থাকে, যা ব্যবহারকারীর অবস্থান ও নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে। ভিপিএন ছাড়া এই তথ্য গোপন করা সম্ভব নয়। এছাড়া ইনকগনিটো মোড ম্যালওয়্যার, কিলগার বা ফিশিং আক্রমণ থেকেও সুরক্ষা দেয় না।

ইনকগনিটো মোড যেভাবে চালু করবেন

গুগল ক্রোম: ডান দিকের থ্রি ডট মেনু খুলে ‘New Incognito Window’ নির্বাচন করুন। শর্টকাট: Ctrl + Shift + N (Windows), Command + Shift + N (Mac)।

অ্যাপল সাফারি: ফাইল মেনু থেকে ‘New Private Window’ নির্বাচন করুন। শর্টকাট: Shift + Command + N।

আইফোন ও আইপ্যাড: ট্যাব আইকনে চাপ দিয়ে ‘Private’ মোড নির্বাচন করুন।

বিকল্প উপায়

শুধু ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করলে অনলাইন ট্র্যাকিং এড়ানো যায় না। আরও শক্তিশালী গোপনীয়তার জন্য বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। ভিপিএন (VPN) ইন্টারনেট ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে আইপি ঠিকানা আড়াল করে। টর ব্রাউজার অধিক নিরাপদ হলেও গতি তুলনামূলক কম। এছাড়া গোপনীয়তাকেন্দ্রিক ব্রাউজার ও সার্চ ইঞ্জিনও কিছুটা নজরদারি কমাতে সাহায্য করে।

ইনকগনিটো মোড মূলত স্থানীয়ভাবে তথ্য গোপন রাখে। তবে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন গোপনীয়তার জন্য ভিপিএন, টর ব্রাউজার বা গোপনীয়তাকেন্দ্রিক সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর।

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন