মেটা স্মার্ট গ্লাসে ফেস রিকগনিশন ফিচার বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের স্মার্ট গ্লাসে যুক্ত করতে যাচ্ছে আলোচিত ফেস রিকগনিশন বা চেহারা শনাক্তকরণ ফিচার। এই ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারী স্মার্ট চশমা পরেই সামনে থাকা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে পারবেন।
মেটার অভ্যন্তরীণভাবে এই ফিচারটির নাম দেওয়া হয়েছে “Name Tag”। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করবে।
স্মার্ট গ্লাসের ক্যামেরা কারও মুখ শনাক্ত করে মেটার প্ল্যাটফর্মে থাকা পাবলিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। মিল পাওয়া গেলে সেই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় ব্যবহারকারীর সামনে দেখাতে পারবে।
এই ফেস রিকগনিশন ফিচারটি যুক্ত হওয়ার কথা এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি মেটা স্মার্ট গ্লাসে।
এই স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, গান শোনা এবং ভয়েস কমান্ড ব্যবহারের সুবিধা ইতোমধ্যেই রয়েছে।
২০২১ সালে প্রথমবার স্মার্ট গ্লাসে ফেস রিকগনিশন যুক্ত করার চিন্তা করেছিল মেটা। তবে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনার কারণে সে সময় পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উন্নতির কারণে মেটা আবারও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
এই প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা। সমালোচকদের মতে, মানুষের অজান্তে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হলে তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বের অনেক দেশে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। ফলে সব দেশে একসঙ্গে এই ফিচার চালু করা মেটার জন্য চ্যালেঞ্জের হতে পারে।
মেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফিচার চালুর নির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু হতে পারে।
মেটা স্মার্ট গ্লাসে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি যেমন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে, তেমনি গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি করছে। এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মেটা কীভাবে ব্যবহারকারীর সম্মতি ও অধিকার নিশ্চিত করে তার ওপর।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.