১৮ জুলাই ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চ্যাটজিপিটির প্রভাবে একরকম হয়ে যাচ্ছে মানুষের ভাষা: গবেষকদের সতর্কবার্তা

calendar_month ১৭ জুলাই ২০২৫ ১৮:০৫:৩৬ person অনলাইন ডেস্ক
চ্যাটজিপিটির প্রভাবে একরকম হয়ে যাচ্ছে মানুষের ভাষা: গবেষকদের সতর্কবার্তা

চ্যাটজিপিটির উত্থানের পর থেকে মানুষের ভাষায় একঘেয়েমি আসছে—এমনটাই সতর্ক করছেন জার্মান গবেষকেরা। তাঁদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিশেষ করে বড় ভাষা মডেল (এলএলএম)-এর প্রভাব শুধু প্রযুক্তিতেই নয়, মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট-এর গবেষক দল বলছে, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির আগমনের পর থেকে কিছু নির্দিষ্ট শব্দ—যেমন ‘ডেলভ’, ‘কমপ্রিহেন্ড’, ‘সুইফট’, ‘মেটিকুলাস’ ও ‘বোস্ট’—বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষকেরা এগুলোকে ‘GPT শব্দ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

৩ লাখেরও বেশি ইউটিউব একাডেমিক ভিডিও ও প্রায় ৮ লাখ পডকাস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব শব্দের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ‘ডেলভ’ শব্দটির ব্যবহারে বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা গেছে।

যদিও গবেষণাটি এখনো পিয়ার-রিভিউ হয়নি, তবে গবেষকেরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন—এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তাঁদের প্রশ্ন: "এআই কি নিজস্ব একধরনের সাংস্কৃতিক রীতিনীতি তৈরি করছে, যা মানব ভাষাকে প্রভাবিত করছে?"

গবেষকদের মতে, ভাষায় একই ধরনের শব্দ বা বাক্য কাঠামো বারবার ব্যবহৃত হলে তা শুধু একঘেয়েমিই তৈরি করে না, বরং ভবিষ্যতে মানুষ-এআই মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে একটি ‘বন্ধ সাংস্কৃতিক চক্র’ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ অবস্থায় ভাষা হয়ে উঠতে পারে নিরুত্তাপ ও অনুভূতিশূন্য—যেখানে মানুষের ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতা কমে যেতে পারে।

আরও আশঙ্কার বিষয় হলো, যদি ভবিষ্যতের এআই মডেলগুলো এমন ভাষার তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়, যা পূর্ববর্তী এআই-প্রভাবিত ডেটা থেকে এসেছে, তাহলে একঘেয়ে ভাষা ব্যবহারের এই প্রবণতা আরও তীব্র হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “যদি এআই নির্দিষ্ট কিছু সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দেয়, তবে সেটি বৈচিত্র্যবিহীন, একরৈখিক ভাষার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ভাষা হয়ে উঠতে পারে যান্ত্রিক ও অনুভূতিশূন্য।”

শেষ পর্যন্ত, গবেষকদের ধারণা—যদি ভাষা ব্যবহারে বৈচিত্র্য না থাকে, তাহলে কেবল মডেল ব্যবহারে মানুষের আগ্রহই কমবে না, বরং ভাষার মৌলিক গঠনও বিপর্যস্ত হতে পারে।

এটি শুধু ভাষার বিবর্তন নয়, বরং একটি ‘নিরস ভবিষ্যতের’ ইঙ্গিত—যেখানে মানুষের ভাষা ও ভাব প্রকাশের দিশা নির্ধারণ করবে এমন একটি প্রযুক্তি, যার নিজস্ব অনুভূতি বা বোঝার সক্ষমতা নেই।

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন