নিরাপদ পাসওয়ার্ডের মূল ভিত্তি হলো সম্পূর্ণ র্যান্ডমনেস—অর্থাৎ এমন অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্নের মিশ্রণ যা সহজে অনুমান করা যায় না। কিন্তু এআই সাধারণত ডেটার ভেতরে থাকা প্যাটার্ন খুঁজে বের করে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এআই দিয়ে তৈরি পাসওয়ার্ড অনেক সময় নির্দিষ্ট একটি কাঠামো অনুসরণ করে, যা পুরোপুরি এলোমেলো না-ও হতে পারে।
এই জায়গাটাই ঝুঁকির কারণ। কারণ সাইবার অপরাধীরা উন্নত টুল ব্যবহার করে খুব দ্রুত লাখ লাখ সম্ভাব্য পাসওয়ার্ড পরীক্ষা করতে পারে। যদি পাসওয়ার্ডে কোনো পূর্বানুমানযোগ্য ধরন থাকে, তাহলে সেটি ভেঙে ফেলা তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়। তাই অনলাইনে নিরাপদ থাকতে শুধু এআই-নির্ভর পাসওয়ার্ডের ওপর ভরসা না করে, শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
বিশ্বস্ত পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তিশালী ও সম্পূর্ণ র্যান্ডম পাসওয়ার্ড তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি সব পাসওয়ার্ড নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করে, ফলে আলাদা করে মনে রাখার ঝামেলাও থাকে না।
পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে পাসকি প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। এখানে মূলত আপনার ডিভাইসের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হয়, তাই পাসওয়ার্ড চুরি বা অনুমান করার সুযোগ থাকে না। নিরাপত্তার দিক থেকে এটি অনেক বেশি উন্নত।
সহজে মনে রাখার জন্য কয়েকটি এলোমেলো শব্দ মিলিয়ে একটি দীর্ঘ পাসফ্রেজ তৈরি করতে পারেন। এটি একদিকে যেমন নিরাপদ, অন্যদিকে মনে রাখাও সহজ। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এটি যেন কোনো পরিচিত বাক্য বা উদ্ধৃতি না হয়।
শুধু পাসওয়ার্ড নয়, অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) ব্যবহার করা উচিত। এতে লগইনের সময় একটি অতিরিক্ত যাচাইকরণ ধাপ যুক্ত হয়, যা অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
শেষ কথা—ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.