কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (এজিআই) বাস্তবে রূপ নিতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই—এমনটাই মনে করেন এজিআই ধারণার অন্যতম প্রবক্তা বেন গয়ের্টজেল। তাঁর মতে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই মানুষের সমমানের বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই প্রযুক্তির দেখা মিলতে পারে। এর আগে ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানও একই ধরনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে কর্মসংস্থানের বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কাও রয়েছে। সম্প্রতি ফোর্বসে প্রকাশিত এক পডকাস্টে গয়ের্টজেল বলেন, মানবসম এজিআই বাস্তবায়িত হলে বর্তমানের অনেক পেশাই ধীরে ধীরে অচল হয়ে যেতে পারে। যদিও এই পরিবর্তন একদিনে ঘটবে না; ২০২২ সালের পর থেকে জেনারেটিভ এআই যেমন ধাপে ধাপে বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে ধীরগতিতে।
তিনি আরও জানান, শুরুতে যেসব পেশাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়েছিল, বাস্তবে প্রভাব পড়ছে ভিন্ন খাতে। যেমন আইনজীবী ও গ্রাফিক ডিজাইনারদের কাজ ইতোমধ্যে পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান কিংবা শিক্ষকদের মতো পেশাগুলো তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় প্রাসঙ্গিক থাকতে পারে। এমনকি এআইনির্ভর নতুন কিছু পেশার ক্ষেত্রেও স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই বছর আগেও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন, যা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।
তবে এই পরিবর্তনের ভেতরেও নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন গয়ের্টজেল। তাঁর মতে, এজিআইনির্ভর ভবিষ্যতে প্রচলিত ৯টা-৫টার কর্মসংস্কৃতির গুরুত্ব কমে যেতে পারে, যা মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বাস্তবতায় মানুষ পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারবে। অর্থনীতির বড় অংশ পরিচালিত হবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও রোবটের মাধ্যমে, ফলে মানুষ ব্যক্তিগত আগ্রহ, সৃজনশীলতা ও মানসিক তৃপ্তির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’ (ইউবিআই) চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছায়।
সবশেষে গয়ের্টজেল মনে করেন, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট একটি দক্ষতায় পারদর্শী হওয়ার চেয়ে পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ, এজিআই যখন গবেষণাগার পেরিয়ে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে, তখন মানুষের অগ্রাধিকার জীবিকা থেকে সরে গিয়ে জীবনের অর্থ খোঁজার দিকে ঝুঁকতে পারে। কাজ তখন কেবল উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং আরও বিস্তৃত এক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.