ফোল্ডেবল ফোনের বাজার যখন দ্রুত পাতলা, হালকা ও শক্তিশালী ডিভাইসের দিকে এগোচ্ছে, তখন গুগলের নতুন Pixel 11 Pro Fold-কে দেখে মনে হতে পারে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলানোর বদলে নিজের গতিতেই হাঁটছে। ফোনটি আগের মডেলের তুলনায় উন্নত, কিন্তু প্রায় ১,৯০০ ডলারের প্রিমিয়াম ডিভাইস হিসেবে সেই উন্নতি কতটা অর্থবহ—সেটিই বড় প্রশ্ন।
Pixel 11 Pro Fold আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় ১৯ গ্রাম হালকা এবং প্রায় ১ মিমি পাতলা। ফোল্ডেবল ফোনের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর বিপরীতে ব্যাটারি সক্ষমতা কমে ৪,৭৫০mAh হয়েছে, যেখানে আগের মডেলে ছিল ৫,০১৫mAh। বড় ভেতরের ডিসপ্লে ও একসঙ্গে দুটি স্ক্রিন চালানোর কথা বিবেচনা করলে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা অদ্ভুত।
গুগল অবশ্য দ্রুত চার্জিং ও দক্ষতার উন্নতির মাধ্যমে বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করেছে। ফোনটি ২৫W পর্যন্ত Qi2.2 ওয়্যারলেস চার্জিং এবং ২৪ ঘণ্টার বেশি ব্যাটারি ব্যবহারের দাবি করে। তবে হার্ডওয়্যার প্রতিযোগিতায় শুধু সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন দিয়ে সবসময় ব্যবধান মুছে ফেলা কঠিন।
সমস্যাটা আরও স্পষ্ট হয় প্রতিদ্বন্দ্বী ফোল্ডেবলগুলোর দিকে তাকালে। স্যামসাংয়ের নতুন Galaxy Z Fold 8 ইতিমধ্যেই পাতলা ও হালকা ডিজাইন, উন্নত ক্রিজ এবং সামগ্রিকভাবে আরও পরিণত ফোল্ডেবল অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। ফলে Pixel 11 Pro Fold-এর উন্নতিগুলো অনেকটাই বিবর্তনমূলক মনে হয়।
গুগলের শক্তি বরাবরই ক্যামেরা, অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার ও AI। Tensor G6 এবং নতুন Gemini-কেন্দ্রিক ফিচারগুলো সেই জায়গায় Pixel 11 Pro Fold-কে আলাদা করে। কিন্তু ফোল্ডেবল বাজারে শুধু স্মার্ট সফটওয়্যার যথেষ্ট নয়; পাতলাতা, ব্যাটারি, চার্জিং, মাল্টিটাস্কিং ও ডিসপ্লে প্রযুক্তিতেও নেতৃত্ব দেখাতে হয়।
Pixel 11 Pro Fold খারাপ ফোন নয়—বরং এটি গুগলের সবচেয়ে পরিণত ফোল্ডেবলগুলোর একটি। সমস্যা হলো, বাজার যখন দ্রুত এগোচ্ছে, তখন গুগলের আপগ্রেডগুলো সেই গতির তুলনায় ছোট মনে হচ্ছে।
প্রায় ১,৮৯৯ ডলারের ফোনে ব্যবহারকারীরা শুধু “ভালো Pixel” চান না; তারা এমন একটি ফোল্ডেবল চান, যা প্রযুক্তিগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অন্তত সমান, সম্ভব হলে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে। Pixel 11 Pro Fold সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে না পারাই গুগলের ফোল্ডেবল কৌশলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.