একসময় টিকটক মানেই ছিল নাচ, গান কিংবা বিনোদনের ছোট ভিডিও। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও প্ল্যাটফর্মটি তরুণদের জন্য হয়ে উঠছে মাইক্রো-লার্নিং–এর একটি কার্যকর মাধ্যম, যেখানে কয়েক মিনিটেই শেখা যায় চাকরির প্রস্তুতি, যোগাযোগ দক্ষতা, করপোরেট আচরণ কিংবা ব্যবসায়িক বাস্তবতা।
ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে চাইলে শুধু ডিগ্রি নয়, নিয়মিত শেখার অভ্যাসও জরুরি। আর সেই জায়গায় টিকটকের কিছু নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট নির্মাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
ম্যক্স ক্লিমেনকো পেশা, ব্যবসা ও আধুনিক কর্মক্ষেত্র নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও তৈরি করেন। ২০২৫ সালের ‘ক্রিয়েটর অব দ্য ইয়ার’ খেতাব পাওয়া এই ব্রিটিশ নির্মাতা জটিল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন। ক্যারিয়ার পরিবর্তন বা নতুন কিছু শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য তার ভিডিও অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
শাদে জাহরাই আচরণবিজ্ঞানভিত্তিক কনটেন্টের জন্য পরিচিত। ফরচুন ৫০০ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আত্মবিশ্বাস, কার্যকর যোগাযোগ এবং নেতিবাচক চিন্তা নিয়ন্ত্রণের বাস্তব কৌশল শেয়ার করেন। কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করতে এসব দক্ষতা অত্যন্ত মূল্যবান।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ক্রিস ওয়েবস্টারের পরিচালিত ক্যারিয়ার চ্যানেল বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, বেতন নিয়ে দর-কষাকষি এবং কঠিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কৌশল নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করা হয়। বড় কোনো চাকরির সাক্ষাৎকারের আগে এই ধরনের কনটেন্ট আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাস্তবতা জানতে মাইক পেডিটো–র ‘রিয়েলিস্টিক রিক্রুটিং’ অ্যাকাউন্ট কার্যকর। নিয়োগদাতারা কী খোঁজেন, এআই কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বদলে দিচ্ছে এবং কেন অনেক যোগ্য প্রার্থীও সুযোগ পান না এসব বিষয়ে তিনি খোলামেলা আলোচনা করেন।
অন্যদিকে জ্যাক (জ্যাক অ্যাট ওয়ার্ক) নতুন পেশাজীবীদের জন্য ইমেইল লেখা, কাজের গতি বাড়ানো এবং দ্রুত পদোন্নতির মতো ব্যবহারিক বিষয়গুলো সহজভাবে শেখান। ছোট ছোট টিপসও দৈনন্দিন কর্মজীবনে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
টিকটকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো অল্প সময়ে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর শেখার সুযোগ। তবে এর জন্য প্রয়োজন সচেতনভাবে কনটেন্ট নির্বাচন করা। বিনোদনের পাশাপাশি যদি শেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফিড তৈরি করা যায়, তাহলে প্রতিদিনের কয়েক মিনিটও দীর্ঘমেয়াদে পেশাগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
সঠিক কনটেন্ট অনুসরণ করলে টিকটক শুধু বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয় বরং ক্যারিয়ার গড়ার একটি শক্তিশালী ডিজিটাল সহযাত্রী।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.