রেফ্রিজারেটর আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গৃহস্থালি যন্ত্র। কিন্তু অনেক সময় ছোট ছোট অসাবধানতার কারণে ফ্রিজের কম্প্রেসর অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে, কুলিং কমে যায় এবং সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজন বেড়ে যায়। কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই ফ্রিজের কর্মক্ষমতা দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।
ফ্রিজের পেছনে বা নিচে থাকা কনডেনসার কয়েলে ধুলো জমলে তাপ বের হতে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে কম্প্রেসরকে বেশি সময় চলতে হয়। প্রতি ৬ মাস অন্তর ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম দিয়ে কয়েল পরিষ্কার করলে কুলিং ভালো থাকে এবং যন্ত্রের ওপর চাপ কমে।
দরজার রাবার সিল ঢিলা বা ছিঁড়ে গেলে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ার পাশাপাশি কম্প্রেসরও দ্রুত ক্ষয় হয়। গ্যাসকেট পরিষ্কার রাখুন এবং ফাঁক দেখা দিলে দ্রুত পরিবর্তন করুন।
অনেকেই ফ্রিজ ঠাসা করে খাবার রাখেন। এতে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। আবার একেবারে খালিও রাখা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রেখে খাবার সাজালে কুলিং সমানভাবে ছড়ায়।
চুলা থেকে নামানো গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে কম্প্রেসর দীর্ঘ সময় কাজ করে। খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে তবেই ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
সাধারণভাবে ফ্রিজের জন্য ৩–৪° সেলসিয়াস এবং ফ্রিজারের জন্য -১৮° সেলসিয়াস উপযুক্ত। অপ্রয়োজনীয়ভাবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় চালালে বিদ্যুৎ অপচয় হয় এবং যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
ফ্রিজের পেছনে অন্তত ৫–১০ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রাখুন, যাতে গরম বাতাস সহজে বের হতে পারে। ওভেন বা সরাসরি রোদ পড়ে এমন স্থানে ফ্রিজ রাখা থেকেও বিরত থাকুন।
প্রতিবার দরজা খোলার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং উষ্ণ বাতাস প্রবেশ করে। তাই প্রয়োজনীয় জিনিস আগে ঠিক করে নিয়ে দ্রুত দরজা বন্ধ করার অভ্যাস করুন।
মন্তব্য
এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.